তোতা অনেক হাসাহাসি করেছিল ফেসবুকে বিলকি মাসির পোস্ট গুলো দেখে I যত সব পুরোনো কবিতা আর গান I বলেছিলো “তুলি , তুই ভুলেও বিলকি মাসির ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আ্যক্সেপ্ট করিস না I প্রাইভেসী বলে আর কিছুই থাকবেনা I ফেসবুকে নতুন কিনা তার ওপর হাতে অঢেল সময় তাই আমাদের প্রোফাইলে গিয়ে সব দেখে আর মাঝে মধ্যেই ফোন
করে জিগেশ করে "ছেলেটা কে রে ? তোর বন্ধু বুঝি ? স্পেশাল কিছু?" "তুই ওতো পিঠ কাটা জামা পরলি কেন? লোকে কি বলবে হাঁ?” সেদিন আরো কিছুক্ষন বিলকি মাসিকে নিয়ে প্রচুর হাসাহাসি করে আমরা অবশ্য অন্য গল্পে চলে গিয়েছিলম I
বিলকি মাসি আমাদের এক তুতো মাসি , বিয়ে থা করেননি I একটি স্কুলে বাংলার টিচার ছিলেন I যতদিন ওনার মা,
মানে মনিদিদা বেঁচে ছিলেন, ততদিন তাকে সন্তানের মতো আগলে সারা সময়টা কাটাতেন I মনিদিদা যাওয়ার পর এখন একাই থাকেন ওনাদের কালীঘাটের বাড়িতে I আর থাকে দুটো বুলবুলি পাখি I দিনের বেশির ভাগটাই আন্তীয়স্বজন আর পড়শিদের খবর নিয়ে আর চর্চা করে কাটে বিলকি মাসির I বাকিটা বুলবুলিদের সঙ্গে বক বক করে I সেই হেনো বিলকি মাসি ও এখন ফেসবুক
আসক্ত I
এর পর প্রায় বছর পাঁচেক কেটে গেছে I এক রবিবার দুপুরে স্বভাবতই আমার কর্তাটি জমিয়ে ভাতঘুম দিচ্ছে আর আমি বহুদিন পর বইএর আলমারি গুছিয়েছি I কয়েকটা পুরোনো ছোটবেলার বইয়ের মধ্যে Alice in Wonderland খুঁজে পেয়ে উলস্সিতো I মলাটটা খুলে দেখি মুক্তোর অক্ষরে লেখা - তুলির ষষ্ঠ জন্মতিথি তে মনিদিদা ও বিলকি মাসি I এক ঝাঁক সুখস্মৃতি নিয়ে যেই প্রথম পাতাটা উল্টোতে যাবো, হঠাৎ মোবাইলটা টিং টিং করে উঠলো I তাড়াতাড়ি হাতে তুলে দেখি ফেসবুক নোটিফিকেশন I আমার বন্ধুরা কয়েকজন কমেন্ট দিয়েছে আগের দিন আমাদের বিবাহবার্ষিকীতে পোস্ট করা ছবিতে I আর তার নিচে একটা পুরোনো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট রিমাইন্ডার .... বিলকি মাসির I চোখটা হঠাৎ ঝাপসা হয়ে আসে I এই রিকোয়েস্টটা আ্যক্সেপ্ট আর করা হল না ... বিলকি মাসি যে আজ ছমাস হলো আ্যলিসের ওয়ান্ডারল্যান্ড এরই বাসিন্দা I
