না বলা কথাগুলো,
সব রাখা ছিল হলঘরের বুকশেলফে,
হয়তো এখন পুরোনো
বইয়ের পাতার দুধপুকুর আর ক্ষীরসাগরের অতলে I
না শোনা গুঞ্জনগুলো,
গোঁজা ছিল তিনতলার জানলার খড়খড়িতে,
হয়তো শব্দ হয়ে
ঝরে পড়েছে বর্ষার শীলের সঙ্গে নীচের উঠোনে I
আর না গাওয়া
গানগুলো, ছিল পুরোনো হারমোনিয়ামটার রীডের খাঁজে
হয়তো কোনো অচেনা
গানওয়ালার গলার সওয়ারি এখন ওরা I
হাঁ যাবো, তোমার
কাছে একদিন ফিরে যাবো
আমার ফেলে আসা
ওই হারানো সুরগুলো,
নিয়ে আসবো তার
ছেঁড়া সেই তানপুরাটায় ভরে
দেখবে আমি বদলাইনি,
একটুও বদলাইনি II
অচেনা রংগুলো,
রাখা ছিল আঁকার খাতার পাতায় পাতায়,
হয়তো আগুনে
পাখির ধূপছায়া ডিমগুলোর মধ্যে আজও তারা লুকিয়ে I
ছোটবেলার সেই
অসমাপ্ত ক্যানভাসটা, ঝুলছিলো চিলেকোঠার দেওয়ালে,
হয়তো সিঁদুরে
সূর্য্যের ওপর আজ পড়েছে ধূসরের আস্তরণ I
আর না গোনা
তারাগুলো, তুলে রেখেছিলাম ভাঙা টালির ফাঁকের কালো আকাশে,
হয়তো ওরা আজও
খুঁজে ফিরছে হারিয়ে যাওয়া সেই মাকে I
হাঁ যাবো, তোমার
কাছে একদিন ফিরে যাবো,
আমার ফেলে আসা
সেই পুরোনো খেয়ালগুলো,
নিয়ে আসবো রঙ্গীন
স্বপ্নের জালে বোনা ঝোলায় ভরে,
দেখবে আমি বদলাইনি, একটুও বদলাইনি II
দুপুরের কিছু
গন্ধ রাখা ছিল ভাঁড়ার ঘরের কুলুঙ্গিতে,
হয়তো এখন তারা
রঙ্গীন শিশি বয়ামের অন্তরালে I
বিকেলের প্রথম
কালবৈশাখীর গন্ধটা, পুঁতেছিলাম জুঁই গাছটার শিকড়ে
কালের হাওয়ায়
বারান্দা টপকে হয়তো সে পৌঁছে গেছে নতুন কোনো ঘাসে I
আর সন্ধ্যের
সেই শেষ বেলফুলের মালাটা, ছিল ফুলওয়ালারই ঝুড়িতে,
হয়তো তার মিষ্টি
গন্ধে ভরিয়েছে সে কোনো এক অন্ধকার ঝাড়বাতির নিচ I
হাঁ যাবো, তোমার
কাছে একদিন ফিরে যাবো,
আমার সেই ফেলে
আসা সুরভীগুলো,
নিয়ে আসবো হাস্নুহানার পাথরবাটি ভরে,
দেখবে আমি বদলাইনি,
একটুও বদলাইনি II
হাঁ যাবো, তোমার কাছে একদিন ফিরে যাবো I
দেখবে আমি বদলাইনি, একটুও বদলাইনি II
- সোমদত্তা রায়

No comments:
Post a Comment